নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত মনোজ কান্তি দাস (৫৫) সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে তাঁর অবসরোত্তর ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে তিনি সিলেট নগরীর বাগবাড়ি এলাকার নরসিংটিলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচতলায় থাকলেও তিনি দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে একাই থাকতেন।
সোমবার রাতে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে যান মনোজ কান্তি দাস। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন। পরে কক্ষের মেঝে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, উদ্ধারকালে নিহতের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবে শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।