নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
রবীন্দ্রসংগীত ও উচ্চাঙ্গসংগীতে ধারাবাহিক সাফল্যে আলোচনায় কুমিল্লার তরুণ শিল্পী। চিকিৎসাশাস্ত্রের কঠোর অধ্যয়নের পাশাপাশি সংগীতচর্চাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছেন কুমিল্লার তরুণ সংগীতশিল্পী স্নিহা চক্রবর্তী। বর্তমানে তিনি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত ও উচ্চাঙ্গসংগীতে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছে।
স্নিহা চক্রবর্তী শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ। সেই আগ্রহকে ভিত্তি করে তিনি টানা সাত বছর অধ্যাপক দিলীপ মজুমদারের কাছে রবীন্দ্রসংগীত ও উচ্চাঙ্গসংগীতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের এই সাধনাই তাঁর সংগীতজীবনের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।
স্নিহার পারিবারিক পরিবেশও শিক্ষা ও সংস্কৃতিমুখী। তাঁর বাবা ভজন চক্রবর্তী কুমিল্লার আড্ডা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মা স্মৃতি শর্মা একজন গৃহিণী। তাঁদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছেন তিনি।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পারিবারিক শিকড়ের অধিকারী স্নিহা বর্তমানে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার নিজস্ব বাসভবন 'কল্যাণী কুঞ্জ'-এ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। তাঁর ছোট বোন ভূমি চক্রবর্তী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং আবৃত্তিচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
সংগীতাঙ্গনে স্নিহার সাফল্যের তালিকাও সমৃদ্ধ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তিনি উচ্চাঙ্গসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত বিভাগে জেলা পর্যায়ে পরপর কয়েকবার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। পাশাপাশি টানা দুই বছর উচ্চাঙ্গসংগীত বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য সংগীতসাধনায় নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার প্রতিফলন বলে মনে করেন তাঁর শিক্ষক ও স্বজনরা।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা স্নিহা চক্রবর্তীর বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি সংগীতও মানুষের মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তিনি ভবিষ্যতেও চিকিৎসাশিক্ষার পাশাপাশি সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখতে চান।
পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, স্নিহা চক্রবর্তী তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও সংগীত উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবেন।