নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
দেশের সনাতন যুবসমাজকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করা এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শ্রী শ্রী রাম-সীতা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় ‘কমিটি পুনর্গঠন ও পরিচিতি সভা’।
সভা শেষে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক এবং নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ কে. পালের স্বাক্ষরিত অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধুকে সভাপতি এবং সুজন গাইনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুজন গাইন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং সনাতন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধু বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকারবঞ্চনার অভিযোগের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সনাতন যুবসমাজকে সুসংগঠিত করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের জ্ঞান, দক্ষতা, শক্তি ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশের সনাতন যুবকদের একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা হবে। এর মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠন কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে অধিকার আদায়, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের সকল সনাতন যুবক-যুবতীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
সভা শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।