ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এক নারীকে হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত দাবি করেছেন, ওই নারী ধর্মীয় মন্ত্র জপ করছিলেন, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। তবে এই তথ্য আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও পুলিশি তদন্তের অংশ; মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার পয়ারী দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা রেনু রানী সেন (৫২) গত ২২ জুন বিকেলে নাতিকে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরদিন স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তারাকান্দা উপজেলার তিয়রকান্দি বাজারসংলগ্ন একটি কালভার্টের পাশের ডোবা থেকে কচুরিপানার নিচে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ননী চন্দ্র সেন তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ তিয়রকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম (২২)-কে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার সময় রেনু রানী সেন ধর্মীয় মন্ত্র জপ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি তাঁকে পানিতে চেপে ধরে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কালভার্টের নিচে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে রাখেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।
তবে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের মাধ্যমে হবে।