নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মাইসুরু জেলায় বিয়ের মাত্র একদিন আগে একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিজ বাড়ি থেকে হবু কনে ও তার বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতরা হলেন শিবান্না (৫০), তার স্ত্রী নাগারাথনা (৪৫) এবং তাদের ২১ বছর বয়সী মেয়ে রাকশিথা। মঙ্গলবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তার আগের দিনই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, মাইসুরুর টি নরসিপুরা তালুকের হালেকেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আশঙ্কা করছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, বিয়ের প্রস্তুতির শেষ সময়ে পরিবারটি চরম মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একই গ্রামের বাসিন্দা উল্লাস গৌড়া নামের এক তরুণ দীর্ঘদিন ধরে রাকশিথাকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্য এক তরুণের সঙ্গে রাকশিথার বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পর উল্লাস ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাকশিথাকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং বিয়ে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে হবু বরের কাছে বার্তা ও কিছু ছবি পাঠিয়েছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে এই মৃত্যুর জন্য উল্লাস গৌড়াকে দায়ী করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে নোটে উল্লেখিত সব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
টি নরসিপুরা থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা রুজু করেছেন এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সত্যতা এবং সম্ভাব্য প্ররোচনার বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিয়ের আনন্দ যেখানে উৎসবে পরিণত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এক পরিবারের তিন সদস্যের অকাল মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে।