নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু দেব-দেবীর প্রতিকৃতি অবমাননা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন শ্রীরাম মূর্তি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির প্রাঙ্গণে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ ফুট উচ্চতার শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি সম্পন্ন হলে দেশের সবচেয়ে বড় এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শ্রীরাম মূর্তি হবে। সত্য সনাতন টিভি
তবে স্থানীয়ভাবে প্রকল্পটির বিরোধিতা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং মূর্তি ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগের পর গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধের প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠন। রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মশাল মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন পক্ষের উসকানিমূলক বক্তব্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অপপ্রচার রোধে প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
ঘটনাটি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে জানা যায়নি। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।