ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগারওয়াল পরিবার কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ৮ সদস্য নিহত হওয়ার পর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য প্রবীণ রাধে শ্যাম আগারওয়াল (৮০) মঙ্গলবার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো পরিবারে ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গুরুতর অসুস্থ রাধে শ্যাম আগারওয়ালকে গুরুগ্রাম থেকে দিল্লির সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালের নিকটে অবস্থানের সুবিধার্থে তার পরিবারের সদস্যরা মালব্য নগরের ‘ফ্লারিশ ইন’ নামের একটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতাল ও হোটেলের দূরত্ব কম হওয়ায় এবং চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে সহজতার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের দিন ভয়াবহ আগুনে হোটেলে অবস্থানরত পরিবারের ৮ সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন রাধে শ্যাম আগারওয়ালের ছেলে ভিভেক আগারওয়াল, তার স্ত্রী তারজানি আগারওয়াল, মা প্রেম লতা আগারওয়াল, দুই মেয়ে জিভিশা ও ভার্যা এবং আরও কয়েকজন নিকটাত্মীয়।
পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাধে শ্যাম আগারওয়াল বারবার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করছিলেন। তবে তিনি জানতেন না যে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার পুরো পরিবারই প্রাণ হারিয়েছে।
ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পনা করেছিলেন সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করবেন, কারণ ওই সময় সাধারণত রোগীদের দর্শনার্থীদের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ভিভেক আগারওয়ালের বড় মেয়ে জিভিশা, যিনি বেঙ্গালুরুর একজন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ছিলেন, দাদার শেষ সময় পাশে থাকতে দিল্লিতে এসেছিলেন। আত্মীয়দের মতে, নাতনির আগমনে প্রবীণ আগারওয়াল অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে পরিণত হয় করুণ বিদায়ে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিবারটির সব সদস্যের মৃত্যুতে গুরুগ্রামের সেক্টর-৪৬ এলাকার বাসভবন এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে। এক সময়ের প্রাণবন্ত এই পরিবারটি এখন শুধুই শোক ও শূন্যতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।