শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। রোববার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুজিত কর্মকার ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসেন সুজিত কর্মকার। বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাঁকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে আবারও মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত সুজিত কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, সুজিত কর্মকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মুখমণ্ডলসহ কয়েকটি স্থানে ফোলা দেখা গেছে। তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুজিত কর্মকারের দাবি, ২০২৪ সালের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেই তিনি বিদ্যালয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তাঁকে মারধর করা হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। রোববার বিদ্যালয়ে আসার সময় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে সুজিত কর্মকারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।