পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বাড়ির উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রবিন হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের উত্তর কালাইয়া গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন হাওলাদারের স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার (৪৫), ছেলে রনি হাওলাদার (২২) ও হৃদয় হাওলাদার (২৪) আহত হয়েছেন। তাদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই বাড়ির সাতটি পরিবারের সদস্যরা উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি প্লাস্টিকের পাইপ বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। পাইপ কেনা ও স্থাপনের ব্যয় সাতটি পরিবার যৌথভাবে বহন করার কথা ছিল। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানায় একই বাড়ির আনন্দ বেপারির পরিবার।
এ নিয়ে বুধবার সকালে রবিন হাওলাদার ও আনন্দ বেপারির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রতন বেপারির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় রবিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী ঠাকুর রানী, ছেলে রনি ও হৃদয়ও হামলার শিকার হন।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রতন বেপারি (৩২), প্রদীপ বেপারি (২৭), আনন্দ বেপারি (৬০) ও সুশীলা বেপারি (৫০)।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।