পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দুই দিন পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। সোমবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিপদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সমর্থকদের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পর বুধবার একটি বিবৃতি দেন তিনি।
বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান বলেন, তাঁর পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।
তিনি পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিভ্রান্তিতে না জড়িয়ে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, আস্থা ও সম্প্রীতি আরও জোরদার হোক, এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
বিবৃতিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তিনি দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট থাকবে। বিএনপিকে তিনি তাঁর ‘শেষ ঠিকানা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতির শেষাংশে দীপেন দেওয়ান দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পোস্টের শেষে তিনি সবার প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান।