পিরোজপুর পৌর শ্মশানে চুরি, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের এক নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত পৌর শ্মশান প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটায়। সোমবার সকালে শ্মশানে আসা স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করেন।
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান শ্মশান প্রাঙ্গণে অবস্থিত কালী মন্দিরের শিবঠাকুরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। শুধু প্রতিমা ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা; ভাঙা প্রতিমার অংশ মন্দিরের বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্মশানের প্রধান প্রবেশদ্বারও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মন্দিরে সংরক্ষিত প্রণামীর আনুমানিক দুই থেকে তিন হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এছাড়া শ্মশানের সৎকার কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।