বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও আত্মিক জাগরণের মহান ব্রতকে সামনে রেখে আগামী ২২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার (০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সর্বজনীন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসীদান, মহতী সনাতন মানব ধর্মসম্মেলন ও যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গৌর প্রেমানুরাগী সনাতন ধর্ম সংস্কারক, ব্রহ্মনিষ্ঠ পরমহংস পরিব্রাজক ব্রহ্মলীন ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী চিন্তাহরণ পুরী মহারাজের শ্রীচরণাশ্রিত মানবসেবাময় জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির মূর্তপ্রতীক, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় গুরু, সমাজ সংস্কারক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বহু মঠ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ (বেদান্তাচার্য্য) এর প্রবর্তনায় এ মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সনাতন ধর্মের চিরন্তন আদর্শ, মানবপ্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য, সম্প্রীতি ও আত্মিক চেতনার বার্তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে বিশ্বমানবের শান্তি, শুভবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক এই মহামিলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকবৃন্দ।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে সনাতনী সমাজের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আশ্রম, মঠ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুপ্রাণ শিষ্যবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, গুরুভ্রাতা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। আয়োজকরা মনে করছেন, এ আয়োজন সনাতনী সমাজে ঐক্য, একতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সর্বজনীন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসীদান, ধর্মীয় আলোচনা, আধ্যাত্মিক প্রার্থনা, মানবকল্যাণমূলক বাণী প্রচার, ভক্তিমূলক পরিবেশনা এবং যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপন ও শারীরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করবে।
এ উপলক্ষে প্রকাশিত এক শুভেচ্ছা বার্তায় আয়োজকবৃন্দ বলেন, “আসুন, আমরা সকলে পরমারাধ্য গুরুদেব যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজের পবিত্র উপস্থিতিতে এক মহামিলনের বন্ধনে আবদ্ধ হই। গুরুপ্রেম, ভক্তি, ধর্মীয় চেতনা ও মানবসেবার আদর্শকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবতার দীপশিখা প্রজ্বলিত করি।”
তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন, হিংসা ও নৈতিক অবক্ষয়ের সময়ে ধর্মীয় ও আত্মিক মূল্যবোধ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে পরিচালিত করতে পারে। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই শুভ ধর্মীয় মিলনমেলা সনাতন ধর্মের সৌন্দর্য, সৌহার্দ্য, আধ্যাত্মিক শক্তি ও মানবকল্যাণমূলক চেতনার এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।