চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া বাদামতল এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রাচীন স্থাপনা। প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই এটি কোনো পুরনো হিন্দু মন্দির বলে মনে হতে পারে। তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি মূলত “রাম বাবু” নামে পরিচিত এক ব্যক্তির পরিবারবর্গের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত শ্মশান বা সমাধি-স্মারক।
লালচে নির্মাণসামগ্রী, সূক্ষ্ম কারুকাজ, স্তরবিন্যাস এবং নান্দনিক অলংকরণে গড়া এই স্থাপনাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক রহস্যময় আবহ তৈরি করেছে। স্থাপত্য বিশ্লেষকদের মতে, এর কিছু নকশাগত বৈশিষ্ট্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন খেমার স্থাপত্যের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে কম্বোডিয়ার বিখ্যাত বানতেয় শ্রেই মন্দিরের সূক্ষ্ম খোদাইকর্মের সঙ্গে এর অলংকরণধর্মী সৌন্দর্যের মিল খুঁজে পান অনেক দর্শনার্থী। সত্য সনাতন টিভি
তবে স্থানীয় ইতিহাস ও প্রচলিত জনশ্রুতি বলছে, এটি কোনো উপাসনালয় নয়। বরং মৃত স্বজনদের স্মরণে নির্মিত একটি পারিবারিক স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময়কার সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্থাপনাটির চারপাশে আজও ছড়িয়ে আছে নীরবতা, পুরোনো দিনের স্মৃতি আর অজানা ইতিহাসের আবরণ।
সময়ের ক্ষয়, আবহাওয়ার প্রভাব এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে স্থাপনাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নান্দনিক সৌন্দর্য এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ গবেষণা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি সীতাকুণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
চট্টগ্রামের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে, দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়ার এই নীরব স্থাপনাটি যেন অতীতের এক অজানা অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে যেখানে ইতিহাস, স্থাপত্য ও পারিবারিক স্মৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন আজও টিকে আছে।