আদিনাথ মন্দির-এ দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০০৫–২০০৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় মহেশখালীর ঐতিহাসিক “আদিনাথ জেটি”। প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জেটিটি বর্তমানে মহেশখালীর অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
জেটির প্রবেশমুখে স্থাপিত উদ্বোধনী ফলক থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন মহেশখালী-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার-২) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জেটিটির উদ্বোধন করেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “আদিনাথ জেটি” নতুন এক নামে পরিচিতি পাচ্ছে “শুটিং ব্রীজ” নামে। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে এই নাম ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে বহু কনটেন্ট নির্মাতাকে। ফলে ধীরে ধীরে প্রকৃত নামের পরিবর্তে “শুটিং ব্রীজ” নামটিই বেশি প্রচার পাচ্ছে নেট দুনিয়ায়।
এই নামের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহেশখালীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরিয়ে দেখানো কিছু অটো ও টমটম চালক দর্শনার্থীদের কাছে আদিনাথ জেটিকে “শুটিং ব্রীজ” হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের ভাষ্যমতে, এখানে নাকি বিভিন্ন সিনেমা বা নাটকের শুটিং হয়েছে,যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব চালক অনেক সময় রামায়ণ-এ উল্লেখিত “মৈনাক পর্বত”-কেও “ময়নামতি পাহাড়” নামে পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে দর্শনার্থীরা সেই নামগুলোই ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ও ভিডিও আপলোড করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সত্য সনাতন টিভি
তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদিনাথ জেটির সঙ্গে কোনো বাংলা, ভারতীয় বাংলা কিংবা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে “ময়নামতি পাহাড়” নামেরও মহেশখালীর ইতিহাস বা ভূগোলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহেশখালীতে “ময়নামতি” নামে কোনো স্থান নেই এবং অতীতে এই নামের কোনো ঐতিহাসিক অস্তিত্বও পাওয়া যায় না। সত্য সনাতন টিভি
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হতে পারে এবং মহেশখালীর প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্য আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা আদিনাথ
মন্দির সংলগ্ন স্থানগুলোর প্রকৃত ইতিহাস ও সঠিক নাম প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি আদিনাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ-এর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন স্থানগুলোর সঠিক ইতিহাস নির্ভুলভাবে প্রচারের দিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করতে বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড ও তথ্যসমৃদ্ধ ফেস্টুন স্থাপন করা হয়।