বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ অক্সিজেন সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
নিহত দিপালী সিকদার (৪০) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা–র পূর্ব খরকি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় শুক্রবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করে চিকিৎসক টানা অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা ও অক্সিজেন পয়েন্ট সংকটের কারণে দিপালী সিকদারকে একটি ট্রলিতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় মেডিসিন ইউনিটের এক কর্মচারী অন্য রোগীর ব্যবহারের জন্য ট্রলিটি সরিয়ে নিতে গিয়ে তার অক্সিজেন সংযোগ খুলে দেন। পরিবারের দাবি, ওই কর্মচারী ২০০ টাকা বকশিসের বিনিময়ে এমনটি করেন। সত্য সনাতন টিভি
দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার বোনের মৃত্যু হয়। তিনি এ ঘটনাকে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ নয়, বরং ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেন।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্বজনেরা অভিযুক্ত কর্মচারীকে আটক করে মারধরের চেষ্টা করলে হাসপাতালের অন্য কর্মচারীরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। সত্য সনাতন টিভি
দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য জানান, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী হাসপাতাল এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সত্য সনাতন টিভি
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।