কক্সবাজারের খুরুশকুলে সন্ন্যাসী নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সনাতনী সমাজ। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কক্সবাজার জেলা সভাপতি এডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি। আরো উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান আইনজীবী সংসদ কক্সবাজার জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বিমল দে। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক দোলন ধর। আরো উপস্থিত থাকেন কক্সবাজার জেলা ব্রাহ্মণ সংসদ সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চক্রবর্তী আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ব্রাহ্মণ সংসদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল ব্রাহ্মণ। সত্য সনাতন টিভি
বক্তারা বলেন, একজন সাধুকে হত্যার পরও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত নয়ন সাধুর পরিবারকে আইনি সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সত্য সনাতন টিভি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রবীন্দ্র দাশ রবি বলেন, “সন্ন্যাসী নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের ২৫ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। একজন সাধুকে হত্যার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণেই বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, ব্রাহ্মণ সংসদসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, উপজেলা ভিত্তিক স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।
এছাড়া আগামী ২৫ জুনের মধ্যেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হলে ২৬ জুন কক্সবাজার জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ কর্মসূচিতে সনাতনী সম্প্রদায়সহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা। সত্য সনাতন টিভি
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল এলাকার নাগ পঞ্চমী মন্দিরের সেবায়েত নয়ন দাস নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর পরিবার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে ২২ এপ্রিল বিকেলে মন্দির সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।