পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর কয়েকটি এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বহু ভিডিওর সঙ্গে এসব ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক নেই। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মসজিদে আগুন দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এসবের বেশিরভাগই পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ভিডিও।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে অন্তত ১৫টি ভাইরাল ভিডিও ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। কিছু ভিডিও কাশ্মীর, আসাম, রাজস্থান, দিল্লি কিংবা নেপালের পুরোনো ঘটনার হলেও সেগুলো পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলে প্রচার করা হয়েছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়, কলকাতায় মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। অথচ সেটি ছিল কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি মাদরাসা ও মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আরেকটি ভিডিওতে মসজিদে হামলার কথা বলা হলেও সেটি আসলে তৃণমূল নেতার অফিস ভাঙচুরের দৃশ্য।
একইভাবে মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা, আগুন, ভাঙচুর কিংবা কবরস্থান উচ্ছেদের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো এবং ভিন্ন রাজ্যের ঘটনা। কোথাও দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড, কোথাও উচ্ছেদ অভিযান, আবার কোথাও স্থানীয় সংঘর্ষের দৃশ্যকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়া, “মুসলমানরা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বাংলাদেশে পালাচ্ছে” দাবি করে ছড়ানো কয়েকটি ভিডিওও বিভ্রান্তিকর। যাচাইয়ে দেখা যায়, সেগুলোর একটি চরমোনাই মাহফিল শেষে মুসল্লিদের যাত্রার দৃশ্য, আরেকটি কালী প্রতিমা বিসর্জনের ভিডিও, অন্যটি বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে মানুষের সমাবেশের দৃশ্য।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব পোস্টের মন্তব্যে বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হচ্ছে। ফলে বিভ্রান্তিকর ভিডিওগুলো শুধু ভুল তথ্যই নয়, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে।