চট্টগ্রামে ভক্তিমূলক সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী ভজনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ‘টিম সুদর্শন’। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা বাংলা ভজন, মৃদঙ্গ, করতাল, ঢোল ও দোতারার সুরকে আবারও মানুষের হৃদয়ে ফিরিয়ে আনাই দলটির মূল লক্ষ্য।
২০২২ সালের ২৫ জুন চট্টগ্রামের ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে দলটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা ভজন ও কীর্তনের মাধ্যমে তরুণদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির সদস্যদের দাবি, চট্টগ্রামে মন্দিরের বাইরে প্রথমবারের মতো আউটডোর কীর্তন মেলার আয়োজনও তারাই করেছিল। সত্য সনাতন টিভি
দলটির সংগীত পরিবেশনায় আছেন নয়ন দে, ভবতোষ দাস, পুষ্পিতা শর্মা, শ্যামা দাস ও সুভদ্রা শর্মা। মৃদঙ্গে সঙ্গ দেন পল্লব মজুমদার, বাংলা ঢোলে প্রান্ত দাস এবং গিটারে দেবজিৎ দাস।
টিম সুদর্শনের সদস্যরা সত্য সনাতন টিভিকে জানান, বর্তমান যুবসমাজকে নিজ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করতেই তাদের এই উদ্যোগ। পুরোনো ভজনগুলোকে বিকৃত না করে আদি ভাবধারা বজায় রেখে সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তাদের ভাষায়, “আমরা চাই আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেন আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে না যায়। ঢোল, করতাল, মৃদঙ্গ, দোতারার মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আবারও ফিরে আসুক।”
‘সুদর্শন’ নামটির পেছনেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য অস্ত্র সুদর্শন চক্র শুভ শক্তির প্রতীক এবং অসৎ শক্তির বিনাশকারী হিসেবে পরিচিত। সেই ভাবনা থেকেই দলটির নাম রাখা হয়েছে ‘টিম সুদর্শন’। সদস্যদের বিশ্বাস, ধর্মের সঠিক ভাবার্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ধর্মবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান নেওয়ার প্রতীক হিসেবেই এই নাম তাদের অনুপ্রাণিত করে।
ভক্তিমূলক সংগীতের মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনা ও সংস্কৃতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে টিম সুদর্শনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে তরুণদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে।