ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝড় জেলায় ঘটেছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চরম অসহায়ত্ব আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় এক ভাইকে তার মৃত বোনের হাড়ের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির হতে হয়েছে শুধুমাত্র কিছু সঞ্চিত টাকা তোলার জন্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর বয়সী আদিবাসী ব্যক্তি জীতু মুন্ডা তার বড় বোন কালরা মুন্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১৯,৪০০ রুপি তুলতে ব্যাংকে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বোনের মৃত্যু হলেও, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশেষ করে মৃত্যু সনদ বা উত্তরাধিকার সনদ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
একাধিকবার ব্যাংকে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্ত নেন জীতু মুন্ডা। তিনি বোনের কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে এনে কাঁধে করে ব্যাংকে উপস্থিত হন, যাতে প্রমাণ করতে পারেন যে তার বোন সত্যিই মারা গেছেন। সত্য সনাতন টিভি
জীতু মুন্ডা বলেন, “আমি অনেকবার ব্যাংকে গিয়েছি। বোনের জমানো সামান্য টাকাগুলো আমাদের খুব দরকার ছিল। কিন্তু তারা বিশ্বাস করছিল না যে সে মারা গেছে। আমার কাছে কোনো সনদ ছিল না, তাই বাধ্য হয়েই হাড় নিয়ে এসেছি।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে টাকা প্রদান করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। সত্য সনাতন টিভি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন
একটি পরিবার কতটা অসহায় হলে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়? দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেন এত জটিল? মানবিকতা কি কাগজপত্রের কাছে হার মানছে?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুঃখজনক কাহিনি নয়; বরং এটি প্রান্তিক মানুষের ন্যায্য অধিকার পাওয়ার পথে বিদ্যমান জটিলতা ও বৈষম্যের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সত্য সনাতন টিভি
এই করুণ চিত্র আমাদের সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।