গত ২৪শে এপ্রিল ২০২৬ ইং, রোজ শুক্রবার, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত “অপর্ণা চরণ মহাজন বাড়ি গীতা শিক্ষা কেন্দ্র”-এ এক মহতী ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক শ্রীমদ্ভগবদগীতা দান কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, মিরসরাই উপজেলা শাখা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখা যৌথভাবে।
ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার, নতুন প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে মোট ৭০ (সত্তর)টি শ্রীমদ্ভগবদগীতা এবং ৭০ (সত্তর)টি গীতার স্ট্যান্ড বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গীতা অধ্যয়ন ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব, শ্রীমদ্ভগবদগীতার জীবনঘনিষ্ঠ উপদেশ এবং সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, মিরসরাই উপজেলা শাখা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার সম্মানিত শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারস্বরূপ শ্রীমদ্ভগবদগীতা ও গীতার স্ট্যান্ড তুলে দেন। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে উপহার গ্রহণ করে এবং নিয়মিত গীতা অধ্যয়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দও সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে গীতা স্কুলের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক হবে।