১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল, ফরিদপুরের শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন আশ্রমে ঘটেছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় গণহত্যা কান্ডের ঘটনা। পাকিস্তানি সেনারা আশ্রমে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল কীর্তনরত ৮ সাধুকে।
শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনে সেদিন পাকিস্তানি সেনারা কীর্তনরত অবস্থায় যে ৮ সন্ন্যাসীকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে সেই শহীদেরা হচ্ছেন-
(১) শহীদ কীর্তনব্রত ব্রহ্মচারী
(২) শহীদ নিদানবন্ধু ব্রহ্মচারী
(৩) শহীদ অন্ধকানাই ব্রহ্মচারী
(৪) শহীদ বন্ধুদাস ব্রহ্মচারী
(৫) শহীদ ক্ষিতিবন্ধু ব্রহ্মচারী
(৬) শহীদ গৌঢ়বন্ধু ব্রহ্মচারী
(৭) শহীদ চিরবন্ধু ব্রহ্মচারী
(৮) শহীদ রবিবন্ধু ব্রহ্মচারী
মুক্তিযুদ্ধের পর শ্রীঅঙ্গন মন্দিরের চালতে তলার নিচে ৮ শহীদ সাধুর স্মরণে ৮টি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে এবং শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনে নির্মিত হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।
ব্রহ্মচারী উপাধিপ্রাপ্ত এসব সাধু আর তাদের তীর্থকেন্দ্র শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনও রক্ষা পায়নি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হিংস্র দানবীয় থাবা থেকে।
মানবমুক্তির অগ্রপথিক প্রভু শ্রীশ্রী জগদ্বন্ধু সুন্দরের আরাধনা করে তারা দিনরাত জপেন ‘বলো জয় জগদ্বন্ধু বোল’। আর হানাদার পাকিস্তানি ঘাতকেরা এটাকেই রূপান্তর করে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে।
সেদিন আশ্রমে থাকলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান শ্রীঅঙ্গন প্রভু জগদ্বন্ধু ব্রহ্মচারী আশ্রমের সেবায়েত হরিপ্রিয় ব্রহ্মচারী।
হরিপ্রিয় ব্রহ্মচারী বলেন, "আমার চোখের সামনেই গুলি করে মারলো ৮ জন সংসারত্যাগী সন্ন্যাসীকে। ব্রাউনিয়া ফুল গাছ আর জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে বেঁচে গেলাম। আমরা তো কারো ক্ষতি করি না, কারো অকল্যাণ করি না। আমাদের হত্যা করলো কেন ওরা?"
ফরিদপুরে পাকিস্তানি সেনা আসছে- এ খবর পেয়ে প্রভু জগদ্বন্ধুর ভাবশিষ্য মহানাম সম্প্রদায় প্রধান মহানামব্রত ব্রহ্মচারী ও অন্য সাধু-সন্ন্যাসীরা হামলার নির্ধারিত দিন ২১ এপ্রিলের আগেই শ্রীঅঙ্গন থেকে সরে গেলেও থেকে যান ৯ সাধু।
মাবনমুক্তির মহাকল্যাণকামী এ ৯ জনের ৮ জনই মা মাটি মাতৃভূমি আর স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করেন।
শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন আশ্রমের বর্তমান প্রধান মহানাম সম্প্রদায়ের সভাপতি শ্রীমৎ কান্তি বন্ধু ব্রহ্মচারী জানান, সেদিন পাকিস্তানি সেনারা কীর্তনরত সাধুদের হুকুম দিয়ে বলে, ‘বাহার মে আও’। কিন্তু সাধুরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কীর্তন চালিয়ে যান।
মানুষরুপী হায়েনার দল প্রথমে মন্দিরে ঢুকে কীর্তনরত ৯ সাধুকে বের করে মন্দিরের পাশে চালতা তলায় নিয়ে আসে। এ সময় পেছন দিক থেকে সাধু হরিপ্রিয় ব্রহ্মচারী সিঁড়িকোঠায় ও পরে আশ্রমের জঙ্গলের মধ্যে ব্রাউনিয়া ফুলগাছের পেছনে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এরপর মাঠে নিয়ে ৮ সাধুকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।
শ্রী অঙ্গন জগদ্বন্ধু ব্রহ্মচারী আশ্রমের এ গণহত্যা ছিল ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম গণহত্যার ঘটনা। গৃহত্যাগী আট সন্ন্যাসী হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুরের প্রথম শহীদ। সত্য সনাতন টিভি
মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রীঅঙ্গনের সাধুরা জানান, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা ২১ এপ্রিল ভোরে গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই শহরের দিকে গোলাবারুদ নিক্ষেপ করতে থাকে একের পর এক। সন্ধ্যার পরে শহরে ঢুকে প্রথমেই গোয়ালচামট শ্রীঅঙ্গনে মহানাম সম্প্রদায়ের ৮ সাধুকে কীর্তনরত অবস্থায় হত্যা করে। গৃহত্যাগী এ ৮ সন্ন্যাসীই হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুরের প্রথম শহীদ। সত্য সনাতন টিভি
সেদিন পাকিস্তানি সেনারা কীর্তনরত সাধুদের হুকুম দিয়ে বলে, ‘বাহার মে আও’। কিন্তু সাধুরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কীর্তন চালিয়ে যান। মানুষরূপী হায়েনার দল প্রথমে মন্দিরে ঢুকে কীর্তনরত নয় সাধুকে বের করে মন্দিরের পাশে চালতা তলায় নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে।