চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশেষে চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’। দীর্ঘ প্রায় আট বছরের নির্মাণযজ্ঞ শেষে সোমবার (২০ এপ্রিল) অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মন্দিরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রীয় মন্দিরের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সত্য সনাতন টিভি
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হতো। এ প্রেক্ষাপটে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০১১ সালে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয় প্রশাসন।
এরপর দেশ-বিদেশে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদানে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে মন্দির কমপ্লেক্স। শুরুতে সীমানা প্রাচীর, রিটেনশন ওয়াল ও মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে খোলা আকাশের নিচেই পূজার আয়োজন করা হতো।
পরে প্রবাসী ব্যবসায়ী অদুল কান্তি চৌধুরীর আর্থিক সহায়তায় মূল মন্দির নির্মাণকাজ গতি পায়। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নকশা, প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তায় নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, শতকণ্ঠে গীতা পাঠ, সাধুসঙ্গ, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি’ এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটিকে শুধু পূজার স্থান নয়, বরং আধ্যাত্মিক চর্চা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এখানে বৈদিক গ্রন্থাগার, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের জন্য অডিটোরিয়াম, ধ্যানকেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্রদের সহায়তায় কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সত্য সনাতন টিভি
উপাচার্য বলেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হবে, তেমনি ক্যাম্পাসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী করবে।