চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রপাল পূজা ও বৈশাখী মেলা। ভোর থেকেই ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী ক্ষেত্রপাল মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তির এই শুভ লগ্নে দেবাদিদেব শিব ও মহামায়া কালীর ঐশ্বরিক মিলন ঘটে। সেই বিশ্বাস থেকেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে ক্ষেত্রপাল পূজা।
ক্ষেত্রপালকে ধরা হয় ক্ষেত্রের রক্ষক হিসেবে। তিনি ভূমির অভিভাবক, কৃষির আশীর্বাদক এবং গ্রামীণ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেকের মতে, তিনি শিবের ভৈরব রূপ, যিনি রুদ্র শক্তির প্রতীক।
ভোর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষরা অংশ নেন পূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে। পূজার প্রধান আকর্ষণ ছিল ডাবের জল ও দুধ দিয়ে ক্ষেত্রপাল ঠাকুরের স্নান।
পরে নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয় পূজা। ভক্তরা মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন এবং তাদের মনোবাসনা পূরণের আশায় মানত করেন। পুরো পরিবেশজুড়ে সৃষ্টি হয় এক গভীর ভক্তিময় আবহ।
ভক্তরা জানান, এই পূজায় অংশ নিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং নিজেদের মনের আশা পূরণের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
পূজার পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণে বসে বৈশাখী মেলা। বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যায় খেলনা, মাটির তৈরি সামগ্রীসহ নানা পণ্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
চৈত্র সংক্রান্তি ও ক্ষেত্রপাল পূজা তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়।