চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত কাটিরহাট পশ্চিম ধলই এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন ও পূজনীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শ্রী শ্রী মা মগদেশ্বরী মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক ক্ষেত্রপাল উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কাছে এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক মিলনমেলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আগামী ০৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা এবং প্রার্থনার মাধ্যমে এই পবিত্র আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণকে সজ্জিত করা, ভক্তদের আগমনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠ, চণ্ডীপাঠ এবং চণ্ডীযজ্ঞ, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত। গীতা পাঠের মাধ্যমে মানবজীবনের নৈতিকতা, কর্তব্যবোধ, আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির বার্তা তুলে ধরা হবে। একইভাবে চণ্ডীপাঠ ও চণ্ডীযজ্ঞের মাধ্যমে দেবী শক্তির আরাধনা, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হবে।
এই পবিত্র অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শ্রীমৎ স্বামী প্রসিদ্ধানন্দ সরস্বতী, যিনি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পদুয়া এলাকার একজন সুপরিচিত আধ্যাত্মিক সাধক ও ধর্মীয় বক্তা হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত। তাঁর সুগভীর জ্ঞান, সুমধুর কণ্ঠ এবং আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ভক্তদের হৃদয়ে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের ধর্মীয় পরিবেশ আরও গভীর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনুষ্ঠানটি সকাল থেকেই শুরু হয়ে সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। ভোরবেলা মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে গীতা পাঠ, চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা, হোম-যজ্ঞ ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজনও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তবৃন্দের মধ্যে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবছর এই আয়োজনে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করে থাকেন, যা এক ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
পরিশেষে, শ্রী শ্রী মা মগদেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন, ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণকে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে।