দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে অন্তত ১০০টির বেশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের মতো ঘটনা রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। ফেব্রুয়ারিতে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫০টিতে। মার্চ মাসেও সহিংসতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, যেখানে ৩০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও জমি দখলের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পরিষদের নেতারা বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ধরনের সহিংসতা কমবে এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। সত্য সনাতন টিভি
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটি কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।”