নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি হিন্দু পল্লীতে মাদকসেবীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের খাঁগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—খাঁগড়া হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত রঞ্জন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র মণ্ডল (৫৭), শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল (৫৫), কৃষ্ণ চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী পূষ্পারানী (৪৫), তাঁদের ছেলে পলাশ চন্দ্র (২৮) এবং দিলীপ চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী দীপ্তি রানী (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করে ভুক্তভোগীদের বাড়ির খলিয়ানে এসে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও অশালীন আচরণ করছিলেন। এতে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে তারা ওই ব্যক্তিদের সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অতর্কিত হামলা চালান। তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এতে নারীসহ পাঁচজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা পাননি। হামলার পর থেকে অভিযুক্তরা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে একই গ্রামের শান্ত (৩০), মিজানুর রহমান (২৮), হায়াতবক্স (৩০), সায়েদ আলী (৫৫), মজিবর রহমান (৫০), রাব্বানী (৩০), শাহাবুদ্দিন (২৮) ও হারুন (৩২)সহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।