কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুলে অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র শ্রীশ্রী রামকুট তীর্থধামে ছয় দিনব্যাপী মহারাম নবমী উৎসব ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৩ মার্চ সোমবার সকালে শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহতী ধর্মসভা এবং রাতব্যাপী ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন। ‘টিম বৃষ্টি’র সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত ভক্তদের মাঝে ভক্তি, আনন্দ ও আত্মিক প্রশান্তির আবহ সৃষ্টি করে। সত্য সনাতন টিভি
ধর্মসভার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রী বিজয় ধর এবং সঞ্চালনা করেন শ্রী সুশান্ত পাল। মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্বলন করেন শ্রীমৎ স্বামী উমেশানন্দ গিরি মহারাজ। আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ব্রহ্মচারী। সত্য সনাতন টিভি

ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড স্নাইন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিপ্লব দে পার্থ, চট্টগ্রাম কারা পরিদর্শক শ্রী উজ্জ্বল বরন বিশ্বাস, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী রাজীব ধর তমালসহ আরও অনেকে।
প্রধান ধর্মীয় বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন লায়ন শ্রী শম্ভু দাশ। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী ঝুন্টু চৌধুরী এবং আলোকিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রী শুভাশীষ শর্মা পলাশ। বক্তারা ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জীবনাদর্শ তুলে ধরে নৈতিকতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবতার বার্তা প্রচার করেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীর শুভ ষষ্ঠী পূজা ও তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞের অধিবাস, যেখানে পুরোহিত্য করেন প্রিয়ব্রত গোস্বামী ও তাঁর দল। সত্য সনাতন টিভি
পরবর্তী চার দিনে (৩য় থেকে ৬ষ্ঠ দিন) অনুষ্ঠিত হয় মহানামযজ্ঞ, বাসন্তী দেবীর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা, শিবদর্শন এবং বর্ণাঢ্য মহারাম নবমী মেলা।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত রামকুট তীর্থধামে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত-অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। সত্য সনাতন টিভি
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তারা সকল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ছয় দিনের এই মহোৎসব শেষে মহানামযজ্ঞের পূর্ণাহুতি এবং বাসন্তী দেবীর দশমী পূজার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।