বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে চলমান আলোচনায় এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে। বিশেষ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের একজন শক্তিশালী নারী নেতৃত্বকে সংসদে দেখার প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সনাতনী নারী নেত্রী অপর্ণা রায় দাস। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি একজন যোগ্য ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন অপর্ণা রায় দাস। বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নারী নেতৃত্ব বিকাশেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
দলীয় রাজনীতির বাইরে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি বিএনপি-সমর্থিত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপর্ণা রায় দাস শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী নন, তিনি বিএনপির ইতিহাসে প্রথম সনাতনী নারী সম্পাদক। সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন পেলে সংসদে সংখ্যালঘুদের কণ্ঠ আরও জোরালো হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে তার সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বহুমুখী নেতৃত্বগুণ তাকে দলের ভেতরে একটি বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। ফলে আসন্ন সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তার নাম শীর্ষ বিবেচনায় থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।