চট্টগ্রাম জেলার খাগড়াছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত রথিচন্দ্র কারবারি পাড়ায় স্থাপিত হয়েছে “ত্রিপুরেশ্বরী কালীমাতা ও মহাদেব মন্দির”। স্থানীয়ভাবে এটি ইতোমধ্যেই একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মন্দির স্থাপন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১১২টি ত্রিপুরা পরিবারকে পুনরায় সনাতন ধর্মের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে Sanatan Philosophy and Scripture (এসপিএস)। সংগঠনটির দাবি, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অনেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কেউ কেউ ধর্মচ্যুতও হয়ে পড়েছিলেন। সত্য সনাতন টিভি
গত ২০ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি রোজ শুক্রবার মন্দিরটির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত হয় বৈদিক যজ্ঞ ও পূজা-অর্চনা। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর আরাধ্য দেবতা ত্রিপুরেশ্বর মহাদেব ও ত্রিপুরেশ্বরী কালীমাতার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এসপিএস এর সভাপতি শ্রী অনিক কুমার সাহা ও সঞ্চলনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী লিখন ঘোষ। এই সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এসপিএস এর উপদেষ্টা ডা.শ্রী বৈশাল বসাক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এসপিএস এর পরামর্শক শ্রী রাজীব সাহা ও শড়ী জুয়েল সাহা, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এসপিএস এর সাধারণ সম্পাদক শ্রী রবিন দে, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় দাস ও শ্রী নিলয় ঘোষ। সত্য সনাতন টিভি
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু একটি মন্দির নির্মাণ নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রাচীন বৈদিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে স্থানীয়দের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সত্য সনাতন টিভি
এদিকে, এসপিএস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই মন্দির প্রাঙ্গণে একটি বৈদিক গুরুকুল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বৈদিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠা তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রতি আরও সচেতন করে তুলবে।