ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ সোহেল রানা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল ওই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং কারখানার কর্মীদের উসকানি দিয়ে উত্তেজিত করার পাশাপাশি দিপুর মৃতদেহের ওপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় শতাধিক লোক জড়িত ছিল। সোহেল তার উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছিলেন। তদন্তে প্রকাশ, তিনি শুধু উপস্থিত ছিলেন না, বরং হত্যার সময় লাশের ওপর নির্মম আচরণ চালানোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায়। দিপু চন্দ্র দাসকে শ্রমিকদের একটি জমায়েতের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার দেহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেটি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ আরও গ্রেপ্তারির আশ্বাস দিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মূল উস্কানিদাতা ও সহযোগীদের শনাক্তের জন্য তৎপরতা অব্যাহত আছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনা অনুসন্ধানে যুক্ত রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পুরো চক্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নৃশংস ঘটনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও প্রতিক্রিয়া এসেছে। সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মানুষরা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবিতে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ বলেছে, তারা দিপুর হত্যার সঙ্গে যুক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করছে এবং এই ধরনের দমনমূলক ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।