দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বহু হিন্দু মন্দিরের জমি ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের মতে, মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ না থাকা এবং কার্যকর কমিটির অভাবই এ সমস্যার প্রধান কারণ। ফলে বহু জায়গায় মন্দিরের জমি ব্যবহার হচ্ছে অন্য কাজে, কোথাও পথ সংকুচিত হয়ে গেছে, আবার কোথাও মন্দিরপ্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে বাজার বা ফাঁকা জমিতে।
স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ মন্দিরের জমি কাগজে-কলমে বৈধ হলেও বাস্তবে সেগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। সীমানা প্রাচীর না থাকায় ধীরে ধীরে আশপাশের লোকজন জমি ব্যবহার শুরু করে এবং একসময় তা স্থায়ী দখলে পরিণত হয়। সত্য সনাতন টিভি
অনেক এলাকায় মন্দির পরিচালনার জন্য শক্তিশালী কমিটি নেই। কোথাও কমিটি থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জমি সংরক্ষণ, সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কাজ নিয়মিতভাবে করা হয় না।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, মন্দিরভূমি রক্ষার জন্য প্রথমে প্রয়োজন সংগঠিত হওয়া। এলাকার তরুণদের একসঙ্গে এসে যোগাযোগ বাড়ানো, সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত হওয়া এবং একটি কার্যকর মন্দির কমিটি গঠন করা দরকার। এরপর অনুদান সংগ্রহ করে অন্তত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করলে জমি রক্ষা করা সহজ হবে।
তাদের মতে, সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজ করা সহজ হবে এবং বেদখলের ঝুঁকি কমবে।
স্থানীয়দের ধারণা, মন্দিরভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। যেমন,
১| মন্দিরের দিঘিতে মাছ চাষ
২| হাঁস পালন
৩| ফল ও ঔষধি গাছ লাগানো
৪| মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম
এ ধরনের উদ্যোগ থেকে আয় হলে মন্দির পরিচালনা সহজ হবে এবং কমিউনিটির লোকজনও উপকৃত হবে বলে মনে করেন তারা।
কিছু এলাকায় এখনও ধারণা রয়েছে যে মন্দির দেবতার আবাসস্থল, তাই তা ঘিরে রাখা উচিত নয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন কমিটি গঠন করলে বিরোধ সৃষ্টি হবে, তাই এসব ঝামেলায় না যাওয়াই ভালো। সত্য সনাতন টিভি
তবে সচেতন মহলের মতে, এসব চিন্তাভাবনার কারণে বহু মন্দিরের জমি হারিয়ে গেছে। তারা বলেন,
অন্য ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সাধারণত সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকে এবং সেগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে সেগুলো দখল হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
স্থানীয়দের মতে, মন্দির রক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন তরুণদের এগিয়ে আসা জরুরি। প্রয়োজনে যুবকমিটি গঠন করে কাজ শুরু করা যেতে পারে এবং প্রবীণদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা যেতে পারে।
তাদের ভাষ্য, কমিটি করলে মতভেদ হতে পারে, কিন্তু তা সমাধান করা সম্ভব। জমি হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা থাকা ভালো।
কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বামনহাট, নয়াদিঘি, প্রধানহাট ও মাড়েয়া অঞ্চলের কিছু মন্দিরের জমি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপ ও আন্দোলনের মাধ্যমেও জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। তাদের বক্তব্য, এটি নতুন কোনো দাবি নয়, বরং যেসব জমি বেদখল হয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। স্থানীয়দের আশা, সংগঠিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে অন্তত বাকি মন্দিরভূমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।