নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয়ে পুরোহিত নিয়োগের পর আবার নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই উপাসনালয়টি দীর্ঘদিন স্থায়ী পুরোহিত না থাকায় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল না। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে পুরোহিত নিয়োগ দেওয়া হলে সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয়টি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে একজন পুরোহিত নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই নিয়মিত পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য উপাসনালয়টি এখন প্রতিদিন খোলা রাখা হচ্ছে। সত্য সনাতন টিভি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুন বিশ্বাস বলেন, স্থায়ী পুরোহিত না থাকায় আগে নিয়মিত পূজা বা বিশেষ ধর্মীয় দিবস পালন করা কঠিন ছিল। এতে অনেকের মধ্যেই এক ধরনের অপূর্ণতা ছিল। এখন নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিবেশ শান্ত ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। তিনি মনে করেন, এমন একটি স্থান শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও নৈতিক বিকাশে সহায়ক। সত্য সনাতন টিভি
নবনিযুক্ত পুরোহিত তপু চক্রবর্তী বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উপাসনালয়ের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। আগে স্থায়ী দায়িত্বে কেউ না থাকায় প্রয়োজনীয় উপকরণ সংরক্ষণ ও আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন ছিল। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক মানুষ উপাসনালয়ে আসছেন। ভবিষ্যতে গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. দিব্যদূতি সরকার বলেন, পুরোহিত নিয়োগ প্রশাসনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির যে চর্চা, এই উপাসনালয় তার একটি ভালো উদাহরণ। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। সত্য সনাতন টিভি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, দীর্ঘদিন পর স্থায়ী পুরোহিত নিয়োগ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম করতে পারছেন। তিনি জানান, উপাসনালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও করা হয়েছে। মেঝেতে টাইলস বসানোসহ কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় পরিবেশ আরও উপযোগী হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকলে ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।