মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী কবিরাজ রেখা রাণী রায় (৬৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি রাতে শ্রীনগর থানা এলাকা থেকে প্রতিবেশী মীর হোসেনকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, কবরস্থানে প্রবেশ এবং চিকিৎসা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি রেখা রাণীকে হত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে সিরাজদীখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন রেখা রাণী রায়। পরদিন গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের দুই হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় শাড়ি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা (নং-১৮) দায়ের করেন। প্রায় ২৯ দিন থানা পুলিশ তদন্ত করার পর মামলাটি পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে গ্রহণ করে।
তদন্তের শুরুতেই পিবিআই ভিকটিমের প্রতিবেশী মীর হোসেনের রহস্যজনকভাবে পলাতক থাকা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা নিশ্চিত হন, এই হত্যাকাণ্ডে মীর হোসেন জড়িত।
এরপর টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।
অবশেষে গত ২ মার্চ রাত ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে মীর হোসেন জানান, দাঁতের তীব্র ব্যথা উপশমে তিনি কবিরাজ রেখা রাণী রায়ের কাছে ওষুধ চেয়েছিলেন। তবে তিনি তাঁর বাড়িতে যাননি। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর বিকেলে তিনি সামাজিক কবরস্থান পরিষ্কার করতে যান। মাগরিবের নামাজের প্রায় ১০ মিনিট আগে রেখা রাণী রায় কবরস্থানে প্রবেশ করতে চাইলে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে তাঁকে বাধা দেন মীর হোসেন। কিন্তু রেখা রাণী বাধা উপেক্ষা করে কবরস্থানে ঢুকে পুরোনো কবর থেকে মাটি ও গাছের শিকড় তুলতে গেলে তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। সত্য সনাতন টিভি
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মীর হোসেন ভিকটিমের পরিহিত শাড়ির আঁচল দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে তাঁর দুই হাত ও পা বেঁধে টেনে পাশের একটি ধানক্ষেতের পানিতে ফেলে দেন এবং সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গ্রেপ্তার আসামি মীর হোসেন কারাগারে আছেন।