সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের অনুষ্ঠান ক্লাব বা বিভিন্ন হলরুমে আয়োজন না করে মন্দিরে করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের নেতা দ্বীপ চন্দ্র ভৌমিক। তাঁর মতে, বৈদিক মন্ত্র ও ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতে মন্দিরই হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।
বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দ্বীপ চন্দ্র ভৌমিক এক বিবৃতিতে বলেন, সনাতন ধর্মে জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বৈদিক মন্ত্র ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রতিটি শুভ কাজের শুরু ও সমাপ্তি হয় স্রষ্টাকে সাক্ষী রেখে এবং ধর্মীয় বিধান মেনে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই বিয়ের অনুষ্ঠান ক্লাব বা বিভিন্ন ভাড়া করা হলরুমে আয়োজন করছেন। তবে এসব স্থানের পরিবেশ ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনায় ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
দ্বীপ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, অনেক ক্লাবের রান্নাঘরে বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না হয়, যা সনাতনী ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অনেকে অনুপযুক্ত মনে করেন। সেই একই স্থানে পরে নারায়ণ শীলার পূজা বা যজ্ঞের আয়োজন করা হলে পবিত্রতা কতটা বজায় থাকে এ বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিয়ে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি সনাতন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এই অনুষ্ঠানে দুইজন মানুষ ধর্মীয় বিধান মেনে এক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং নতুন জীবন শুরু করেন। তাই এ ধরনের আচার–অনুষ্ঠান এমন পরিবেশে হওয়া উচিত, যেখানে ধর্মীয় আবহ ও পবিত্রতা বজায় থাকে।
এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ক্লাবের পরিবর্তে মন্দিরে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মন্দিরের দেবময় পরিবেশে বৈদিক মন্ত্র ও দেবতার আশীর্বাদ নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করলে তা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
দ্বীপ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, “ধর্মীয় সংস্কারকে সম্মান জানিয়ে এবং বৈদিক পবিত্রতা বজায় রাখতে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা ও সংস্কারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।