সারা দেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা। ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এই উৎসব ঘিরে রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দিরে দিনভর পূজা, হোমযজ্ঞ, ভক্তিমূলক সংগীত, প্রসাদ বিতরণ ও নগর কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।
দোল উৎসব মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেম ও ভক্তির স্মরণে পালিত হয়। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন বৃন্দাবনে রাধা ও গোপিনীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই স্মরণেই দোলযাত্রার দিনে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় বসিয়ে নগর কীর্তনে বের হন ভক্তরা। আবিরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা। সত্য সনাতন টিভি
রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজায় অংশ নেন। প্রার্থনা ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় উৎসবের ধর্মীয় অংশ, আর দুপুরের পর আবির খেলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনন্দপর্ব।
বাংলায় দোল পূর্ণিমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে আরেকটি কারণে। এ দিনটিকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি হিসেবেও পালন করা হয়। তাই অনেক স্থানে এটি ‘গৌর পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বের নানা প্রান্তে এই উৎসব বিভিন্ন নামে পরিচিত। অনেক জায়গায় এটি শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে পরিচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও তামিলনাড়ুতে ‘দোল উৎসব’ নামেই বেশি প্রচলিত। অন্যদিকে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং নেপালে এটি ‘হোলি’ নামে উদযাপিত হয়। কোথাও কোথাও একে বসন্ত উৎসবও বলা হয়। সত্য সনাতন টিভি
দোল ও হোলির মধ্যে রীতি, সময় ও পৌরাণিক কাহিনিতে পার্থক্য রয়েছে। দোলযাত্রা পালিত হয় ফাল্গুনী পূর্ণিমায়, যা মূলত বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। আর হোলি উদযাপিত হয় পূর্ণিমার পরের দিন। বাঙালিরা যেদিন দোল পালন করেন, উত্তর ভারতে সেদিন পালিত হয় ‘হোলিকা দহন’। অশুভের প্রতীক হোলিকাকে দগ্ধ করার স্মরণে আগুন জ্বালানো হয়, যা হোলি উৎসবের সূচনা চিহ্নিত করে।
হোলির পৌরাণিক পটভূমিতে রয়েছে অসুররাজ হিরণ্যকশিপু, তার বোন হোলিকা ও ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনি। আগুনে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্রে হোলিকা নিজেই দগ্ধ হন, আর প্রহ্লাদ রক্ষা পান। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভের জয় উদযাপন করতেই হোলি উৎসবের প্রচলন।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দোল পূর্ণিমা এখন সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক। আবিরের রঙে রঙিন হয়ে এদিন ভক্তরা আনন্দ ভাগ করে নেন, মিলিত হন প্রার্থনায় এবং স্মরণ করেন ভক্তি ও ভালোবাসার বার্তা।