শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
আহত নয়ন দাস (২৯) অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি। শুক্রবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ঘটনাস্থলে যান নয়ন দাসসহ কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে স্থানীয়রা পাশের উত্তর মলংচড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ করেন। পরে দূর থেকে ওই স্থানের কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন সাংবাদিকেরা।
সহকর্মীদের অভিযোগ, বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত চক্রের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়ন দাস পেশাগত কাজে শরীয়তপুর শহরে যাওয়ার পথে নাগেরপাড়া বাজার এলাকায় তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এরপর কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, আঘাতজনিত কারণে এক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। তার কাঁধ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই সময় নয়ন দাস সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হন। পরে পথে আটকে মারধর করা হয়। তিনি ঘটনার বিচার চান। সত্য সনাতন টিভি
সহকর্মীরা বলেন, সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ কার্যক্রম প্রশাসনের নজরে আসতে পারত এ আশঙ্কা থেকেই হামলা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-এর সদস্যসচিব নুরুল আমীন রবিন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সত্য সনাতন টিভি
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।