কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার কাউন্টি অ্যাসেম্বলিতে এক ব্যতিক্রমী শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চাঙ্গামওয় এলাকার তরুণ প্রতিনিধি কেলি ক্যালেব শপথ নেন শ্রীমদ্ভগবদগীতা হাতে নিয়ে।
গণমাধ্যম সূত্র জানা যায়, শপথের সময় ক্যালেব ধর্মগ্রন্থটি উঁচিয়ে ধরেন এবং নির্ধারিত অঙ্গীকার পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল মোম্বাসা যুব অ্যাসেম্বলির অধিবেশন, যা Kenya Youth Assembly কাঠামোর অংশ। এ প্ল্যাটফর্মে তরুণেরা আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার আগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার অনুশীলন করেন। সত্য সনাতন টিভি
গঞ্জোনিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর প্রচার নেতা ওমকারা মুকুন্দ দাস বলেন, ক্যালেবের এই সিদ্ধান্ত ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ। তাঁর ভাষায়, কেনিয়ার সংবিধান নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করেই ক্যালেব শপথ নিয়েছেন। সত্য সনাতন টিভি
ক্যালেব মোম্বাসার হরে কৃষ্ণ কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তিনি ‘দ্য বেটার ইউ ক্লাব’ নামের একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষ্ণব দর্শন ও নৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৮০। সত্য সনাতন টিভি
বিশ্লেষকদের মতে, কেনিয়ায় তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তরুণদের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। এ প্রেক্ষাপটে ক্যালেবের শপথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
ওমকারা মুকুন্দ দাসের দাবি, বিষয়টি কেবল একটি ধর্মগ্রন্থে শপথ নেওয়ার ঘটনা নয়; বরং সংখ্যালঘু বিশ্বাসের প্রকাশ্য উপস্থিতির দৃষ্টান্ত। তবে সমালোচকেরা মনে করেন, জনপরিসরে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ নিয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সত্য সনাতন টিভি
কেনিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সহাবস্থান করছে দীর্ঘদিন ধরে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বহুত্ববাদী কাঠামোর মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা মূল্যায়ন করা উচিত।