নীলফামারী সদর উপজেলার ৩ নম্বর খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের সাবুল্লীপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি শ্মশান কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন-এর সাবুল্লীপাড়া এলাকার শ্মশানসংলগ্ন মন্দিরটিতে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মন্দিরে স্থাপিত কালী প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং মন্দিরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতিও করা হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
মন্দির পরিচালনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকালে পূজা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা প্রথমে প্রতিমার ভাঙা অংশ দেখতে পান। এরপর দ্রুত খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের লোকজন মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা নয়, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত।”
ঘটনাস্থলটি একটি শ্মশান মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাবুল্লীপাড়া শ্মশান কালী মন্দির-এ নিয়মিত পূজা ও বিশেষ তিথিতে আয়োজন হয়ে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমেও ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটলেও প্রতিটি ঘটনাই স্থানীয়ভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, গুজব বা অপপ্রচার এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি।