রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে রূপলালের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন প্রদীপ লাল। পথে ভুল হওয়ায় রূপলাল তাঁকে সাহায্য করতে যান। রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয়রা চোর সন্দেহে তাদের আটক করেন। পরে মারধরের এক পর্যায়ে দুজনের মৃত্যু হয়।
পরদিন, ১০ আগস্ট ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় ৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তদন্তে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ভারতী রানীর অভিযোগ, মো. রুবেল পাইকার (৩০) জামিনে বেরিয়ে ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তার ছেলে জয়কে দেখা মাত্র মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। ভারতী রানী জানান, “মামলা না তুলে নেওয়ায় আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমাদের নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করা কঠিন হয়ে গেছে।” সত্য সনাতন টিভি
নিহত রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে। তারা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন, আমাদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হোক এবং বাবার হত্যার আসামিদের শাস্তি দেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেল পাইকার বলেছেন, “মামলায় ৭০০ জন আসামি রয়েছে। আমরা দুজন গিয়ে কি লাভের জন্য মামলা তুলে নেব? এসব অভিযোগ সাজানো। আমি তাকে চিনি না, জীবনে তার বাড়িতেও যাইনি।”
থানার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “আমি বর্তমানে কোর্টে আছি। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।”