রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ ঘটিকায় উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ইউনুস আলী (৩২)। তিনি এবি পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব। তাঁর বাড়ি সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইউনুস আলীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলায় ইউনুস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপলাল দাস তাঁর ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় তাঁদের গতিরোধ করে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রদীপ লালের কাছে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। সেখানে একটি পানীয়র বোতল ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। সত্য সনাতন টিভি
ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠা জনতা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে পাশের একটি বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।