দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মাইনরিটি লইয়ার্স ইউনিটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাইনরিটি লইয়ার্স ইউনিটির আহ্বায়ক জে. কে. পাল, সদস্য সচিব সুমন কুমার রায়, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান আইনজীবী ঐক্য কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিভাস বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর হালদার এবং হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সদস্য সচিব সুমন কুমার রায় বলেন, দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সত্য সনাতন টিভি
আহ্বায়ক জে. কে. পাল বলেন, বর্তমানে দেশে আইনের শাসন কার্যকর আছে বলে মনে হয় না। সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য ক্রমেই বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, দীপু চন্দ্র দাশ হত্যাসহ দেশে সংঘটিত প্রতিটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারের মেয়াদেই প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা সহিংসতা ও অরাজকতা বন্ধে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি হলো
১. সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
৩. বৈষম্য দূর করে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যানুপাতিক হারে সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
৪. ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন থেকে নির্বাচন-পরবর্তী অন্তত ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সব কারাবন্দির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান। সত্য সনাতন টিভি
বক্তারা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।আপনি চাইলে আমি এটাকে আরও সংক্ষিপ্ত, অনলাইন নিউজ পোর্টাল উপযোগী, ফেসবুক পোস্ট ফরম্যাট, অথবা হেডলাইনসহ ব্রেকিং নিউজ স্টাইলেও সাজিয়ে দিতে পারি।