চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বিদ্যার্থী সংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সুরেশ্বরী বন্দনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। দীর্ঘ ছয় বছরের পথচলায় এ বছর এই আয়োজন ঐতিহ্যে ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করায় আয়োজক কমিটির পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিদ্যার্থী সংঘের আয়োজকরা জানান, জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে এবারের পূজার ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর পূজার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে “মাতৃস্নেহে মা জ্ঞানেশ্বরী”
এই ভাবনার মাধ্যমে মাতৃস্নেহে পরিপূর্ণ জ্ঞানের আলোয় সমাজ ও মানবজীবনকে আলোকিত করার বার্তা তুলে ধরা হবে।
পূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পূজাঙ্গনে শুরু হয়েছে মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের প্রতিমা নির্মাণ করছেন খ্যাতনামা মৃৎশিল্পী রাণা আচার্য্য (শরতের দোকান), রাউজান। পূজার ভাবনা ও সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছে বিদ্যার্থী ইভেন্টেস। পূজাঙ্গনের নান্দনিক আলোকসজ্জা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে রিপ্তি সাউন্ড এন্ড লাইটিং, আর মণ্ডপ নির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে দৌলত ডেকোরেশন। ঢাক বাদনের মাধ্যমে উৎসবে প্রাণ ফেরাবেন রুবেল ও তার দল।
এবারের পূজা অনুষ্ঠিত হবে রাউজানের কালী চৌধুরী বাড়ি, সি এনজি স্টেশনের পূর্ব দিকে অবস্থিত নোয়াপাড়া এলাকায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি এই তিন দিনব্যাপী পূজা উদ্যাপন করা হবে, যা যথাক্রমে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।
বিদ্যার্থী সংঘের নেতৃবৃন্দ জানান, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বীণাপানি বন্দনার সকল পর্বে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এই আয়োজনের সার্থকতা নিহিত। তাই সকলকে পূজা মণ্ডপে উপস্থিত থেকে সুরেশ্বরী বন্দনাকে সফল করার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।