কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকূট গ্রামে জীব ও জগতের মঙ্গলার্থে ৩২ প্রহর (৪ দিনব্যাপী) ৭২তম বর্ষ শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী সার্বজনীন দেব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মহাযজ্ঞে ধর্মপ্রাণ ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞের শুভ সূচনা হয়। বুধবার মহাযজ্ঞ উপলক্ষে প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কুমিল্লা জেলা হিন্দু মহাসংঘের প্রায় অর্ধ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাসংঘ কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী জনি মজুমদার জয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা সভাপতি শ্রী নয়ন চন্দ্র নট্ট, দেবীদ্বার উপজেলা সভাপতি শ্রী সঞ্জিত চন্দ্র দেবনাথ এবং চান্দিনা উপজেলার আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক দিগন্ত রায় সৌরভসহ মুরাদনগর, দেবীদ্বার ও চান্দিনা উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও সারথিবৃন্দ।
শ্রী জনি মজুমদার হিন্দুস নিউজকে জানান,
“শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ আমাদের সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এ মহাযজ্ঞ কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক মহান উদ্যোগ। এমন ধর্মীয় আয়োজন আমাদের নৈতিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।”
তিনি আরও বলেন,
“৭২তম বর্ষে পদার্পণ করা এই মহাযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও ভক্তবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে—এই প্রত্যাশা করি।”
আয়োজন কমিটি ও আগত ভক্তবৃন্দরা জানান, শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি মানবকল্যাণ, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। এ মহাযজ্ঞের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।