আজ ১২ জানুয়ারি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও সাহসী নাম বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩৪ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী। তবে তাঁর জীবনাবসান ঘটলেও থেমে যায়নি তাঁর আদর্শের যাত্রা যা আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগায়।
১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সূর্য কুমার সেন। শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। ছাত্রদের কাছে স্নেহশীল, মানবিক ও আদর্শবান শিক্ষক হওয়ায় তাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘মাস্টারদা’ নামে ডাকত। এই নামই একসময় বিপ্লব ও সাহসিকতার প্রতীকে পরিণত হয়।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর মনোজগৎ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার স্বপ্নে আচ্ছন্ন। ব্রিটিশ শাসনের শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি তরুণ সমাজকে সংগঠিত করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তিনি বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’-এর চট্টগ্রাম শাখার নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। এই দুঃসাহসিক অভিযানে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ অস্ত্রাগার আক্রমণ করেন, ইউরোপিয়ান ক্লাব দখল করেন, রেল ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। সামরিক সাফল্য সীমিত হলেও এই অভিযান ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।
অভিযানের পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকেও তিনি আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে তিনি গ্রেপ্তার হন। কারাগারে তাঁকে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, কিন্তু আদর্শচ্যুত করা যায়নি এই বিপ্লবীকে। মৃত্যুর মুখেও তিনি ছিলেন অবিচল, দৃঢ় ও নির্ভীক। সত্য সনাতন টিভি
১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মাস্টারদা সূর্য সেন হয়ে ওঠেন অমর। তাঁর আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম আজও আমাদের সংগ্রামী চেতনাকে শক্তিশালী করে। সত্য সনাতন টিভি
৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এই মহান বিপ্লবীকে। মাস্টারদা সূর্য সেন কেবল ইতিহাসের একজন নায়ক নন তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন প্রেরণা।