আজ ১২ জানুয়ারি। বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সনাতন ধর্মের গর্ব, যুবসমাজের অনুপ্রেরণা স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হচ্ছে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও আত্মজাগরণের অঙ্গীকারে।
১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতার উত্তরাঞ্চলের গৌরমোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটের এক শিক্ষিত কায়েস্ত দত্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। শৈশবেই তাঁর মধ্যে ফুটে ওঠে অসাধারণ মেধা, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও গভীর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধিৎসা। সত্য সনাতন টিভি
শিক্ষাজীবনে নরেন্দ্রনাথ ছিলেন ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন ইন্সটিটিউশন থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশনে অধ্যয়ন করেন তিনি। দর্শন, সাহিত্য, সংগীত, ইতিহাস প্রায় সব বিষয়ে ছিল তাঁর সমান দখল। পাশ্চাত্য দর্শনের যুক্তিবাদ আর প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতার গভীরতা দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন তিনি নিজের চিন্তায়। সত্য সনাতন টিভি
রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সংস্পর্শে এসে নরেন্দ্রনাথের জীবনে আসে এক যুগান্তকারী মোড়। গুরুদেবের আদর্শ ও সাধনাই তাঁকে রূপ দেয় স্বামী বিবেকানন্দে এক নির্ভীক সন্ন্যাসী, যিনি ধর্মকে মন্দিরের গণ্ডি থেকে টেনে আনেন মানুষের জীবনে ও সমাজসেবার পথে।
১৮৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ ভারত ও হিন্দুধর্মকে এনে দেয় বিশ্বমর্যাদা। “সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা”এই কয়েকটি শব্দেই তিনি জয় করে নেন বিশ্ববাসীর হৃদয়। সেই মুহূর্ত থেকে ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শন আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন পরিচিতি পায়। সত্য সনাতন টিভি
স্বামী বিবেকানন্দ কেবল একজন ধর্মগুরু ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমাজসংস্কারক, মানবতাবাদী ও চিন্তানায়ক। তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ দরিদ্র, নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষকে জাগিয়ে তোলাই ছিল তাঁর সাধনা। তিনি বলেছিলেন, “মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা।”
কর্মযোগ, রাজযোগ, জ্ঞানযোগসহ তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ ও ভাষণ আজও তরুণ সমাজকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার পাঠ দেয়। তাঁর বাণী আজও সমান প্রাসঙ্গিক জাতি, ধর্ম, ভাষার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথে চলার আহ্বান জানায়।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর আদর্শ স্মরণ করা মানে কেবল অতীতকে স্মরণ নয় বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আত্মশক্তি, মানবিকতা ও নৈতিক সাহসকে পুনরুজ্জীবিত করা।
“উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না”এই আহ্বান আজও সমান প্রাসঙ্গিক।