মাদারীপুর সদর উপজেলার রাজৈর থানা সংলগ্ন কদমবাড়ি অবস্থিত শ্রীশ্রী মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমের জনকল্যাণ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে একটি ধর্মীয় ও মানবিক আদর্শে গঠিত প্রতিষ্ঠানকে সময়োপযোগী রূপে পরিচালনার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস্ ক্লাব ও শ্রীশ্রী মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে কদমবাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ সভা।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রীশ্রী মহামানব গণেশ পাগলের সেবাশ্রম শুধু একটি ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র নয়, বরং হাজারো ভক্তের আত্মিক আশ্রয়স্থল, বিশ্বাসের কেন্দ্র এবং মানবিক সেবার উৎসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে কিছু নৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজন অনুভব করে এই দুই সংগঠন সম্মিলিতভাবে কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সেবাশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু মিরন বিশ্বাস মহানন্দ, সাধারণ সম্পাদক *বাবু নীলরতন সরকার*, কোষাধ্যক্ষ *বাবু বাবলু সরকার*।
ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা *বাবু রিপন গাইন*, *বাবু দেবাশীষ মণ্ডল*, সভাপতি *রাজিব সরকার রাজু*, সহ-সভাপতি *সাগর শীল সুজন*।
গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
১.দানের টাকার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ:
আশ্রমে আগত ভক্ত ও দাতাদের দানের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার হিসাব প্রতি তিন মাস অন্তর ফেসবুকে প্রকাশ করা হবে।
২. ধর্মীয় শিক্ষা সম্প্রসারণ:
আশ্রম প্রাঙ্গণে একটি ‘গীতা স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে নিয়মিতভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদান করা হবে।
৩. আচরণ ও পরিবেশ শুদ্ধিকরণ:
টিকটক বা অশালীন কার্যকলাপ প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
৪. পরিবেশবান্ধব প্রসাদ বিতরণ: প্লাস্টিকের প্লেট ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প স্বাস্থ্যকর উপায় চালু করা হবে।
৫. দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ:
যে কোনো প্রকার দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৬. কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান:
যারা আশ্রমে কাজ করেন, তাদের কাজ অনুযায়ী সম্মানজনক পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
৭. ভক্ত সেবার মানোন্নয়ন:
ভক্তদের থাকার স্থান, স্বাস্থ্য ও সেবার মান উন্নয়ন করা হবে।
৮. অপসংস্কৃতির বিরোধিতা:
১৩ই জ্যৈষ্ঠ কুম্ভ মেলায় পূর্বে অনুষ্ঠিত নৌকা ড্যান্স ও হোলি কনসার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সভা শেষে ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাজিব সরকার রাজু বলেন,
“মহামানব গণেশ পাগলের আশীর্বাদে এই পবিত্র আশ্রমকে আরও ধর্মীয়, শুদ্ধ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।”