আজ দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অম্বিকাচরণ মজুমদারের ১৭৫তম জন্মবার্ষিকী। বাঙালি রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজসংস্কারে যাঁর অবদান ফরিদপুর তথা গোটা দক্ষিণ বঙ্গের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়, সেই অম্বিকাচরণ মজুমদারকে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে।
অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালে বর্তমান বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন সেনদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী এবং রাজনীতিবিদ। আধুনিক ফরিদপুর গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএ পাস করার পর ১৮৭৪ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরে ১৮৭৯ সাল থেকে ফরিদপুর সদরে আইন পেশা শুরু করেন। আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি তিনি সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন। ১৮৮১ সালে তিনি ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভারতসভার সঙ্গে যুক্ত হয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৬ সালে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
শিক্ষাক্ষেত্রে অম্বিকাচরণ মজুমদারের সবচেয়ে বড় অবদান ১৯১৮ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা। তাঁর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ আজও দক্ষিণ বঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর তিনি এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সদস্য এবং পৌরসভার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। প্রশাসন, শিক্ষা ও সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ফরিদপুরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এক জীবনে অম্বিকাচরণ মজুমদার যে কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করে গেছেন, তার সুফল ফরিদপুরসহ গোটা দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ যুগ যুগ ধরে ভোগ করবে এমনটাই মনে করেন ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।