ময়মনসিংহের ভালুকায় মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ও জীবিত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট-এর উদ্যোগে গত ২৬ শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি রোজ শুক্রবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সহ-মুখপাত্র, সহকারী অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, প্রদীপ কান্তি দে, প্রসেনজিৎ কুমার হালদার, অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী, পীযূষ দাস, নির্মল বিশ্বাস, আশিস বাড়ৈ, রাজ ঘোষ, তিয়াস সরকার, রাজেস নাহা, সুদীপ্ত প্রামাণিক, নিতাই দেবনাথ, কলা চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত, নৃশংস ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ। মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে হাতিয়ার করে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গভীর লজ্জাজনক। বক্তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। "সত্য সনাতন টিভি"
সরকারের কাছে উত্থাপিত দাবিসমূ, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল থেকে সরকারের কাছে নিম্নলিখিত দাবিগুলো সুস্পষ্টভাবে উত্থাপন করা হয়
১. দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত
দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
ক. ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
খ. সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৩. মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ
ক. মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
খ. নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা জারি করতে হবে।
গ. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পদ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘ. ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
৪. মব ভায়োলেন্সে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান
মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে জানমালের ক্ষতি করলে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৫. দিপু দাসের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা
ক. সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
খ. সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক কর্তৃপক্ষকে ন্যূনতম ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান।
গ. পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি প্রদান। "সত্য সনাতন টিভি"
ঘ. পরিবারের সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
৬. প্রশাসনিক জবাবদিহিতা
ক. ঘটনার আগে ও পরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা তদন্ত।
খ. গাফিলতির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
৭. সনাতনী কারাবন্দীদের মুক্তি
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সকল নিরপরাধ সনাতনী কারাবন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
৮. পূর্বঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন
সনাতনী সমাজের প্রাণের পূর্বঘোষিত ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং দিপু চন্দ্র দাস হত্যার সুবিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।