সনাতন ধর্মে তুলসী শুধুমাত্র একটি উদ্ভিদ নয়, বরং বিশ্বাস, পবিত্রতা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় তুলসী পূজন দিবস। এই দিনটি তুলসীর মহিমা ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য স্মরণ করার বিশেষ তিথি হিসেবে মানা হয়। শাস্ত্র মতে তুলসী গাছে দেবী লক্ষ্মীর বাস এবং তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া নামেও পরিচিত। তাই তুলসীর পুজো করলে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি ভগবান নারায়ণও প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস।
পুরাণে তুলসীর মাহাত্ম্যের বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী পুজোর মাধ্যমে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। বাড়িতে তুলসী গাছ থাকলে অশুভ শক্তির প্রভাব কমে এবং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের দশমী তিথি। দশমী তিথি শুরু হয়েছে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৫ ডিসেম্বর রাত ১০টা ২৯ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই তুলসী পুজো করা বিশেষ শুভ বলে গণ্য করা হয়।
তুলসী পূজন দিবসে সকাল ও সন্ধ্যা দু’সময়ই পুজো করা যায়। লাল বস্ত্র পরিধান করে তুলসী গাছের চারপাশ পরিষ্কার করতে হয়। এরপর গাছে জল নিবেদন, কুমকুম, ফুল, ফল ও লাল ওড়না অর্পণ করা হয়। তুলসী মালা হাতে নিয়ে মন্ত্র জপ করে শেষে ঘিয়ের প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করার রীতি রয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্ধ্যাবেলায় তুলসী গাছের সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে সুখ-সমৃদ্ধির প্রার্থনা করলে ভাগ্যোন্নতি হয়। এদিন তুলসী গাছ দান করা কিংবা বাড়িতে তুলসী রোপণ করাও শুভ বলে মনে করা হয়। তুলসীর আরতি করে রোলী ও সিঁদূরের তিলক লাগিয়ে মিষ্টির ভোগ নিবেদন করার চল রয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
তুলসী পূজায় ‘ওঁ তুলস্যৈ নমঃ’ বীজ মন্ত্রটি ১১ বা ১০৮ বার জপ করার বিধান রয়েছে। এছাড়াও তুলসী স্তুতি, তুলসী গায়ত্রী মন্ত্র ও বৃন্দা দেবী অষ্টক পাঠের মাধ্যমে দেবীর কৃপা লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস।
শাস্ত্র মতে নিয়মিত তুলসী পুজো ও জল নিবেদন করলে ব্যক্তি মানসিক শান্তি লাভ করেন এবং মৃত্যুর পর স্বর্গগতি হয়। কথিত আছে, যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে তুলসী পুজো করেন, তাঁদের জীবনে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব থাকে না। "সত্য সনাতন টিভি"
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে তুলসী পূজন তাই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানসিক স্থিরতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিক সংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আজ তুলসী পূজন দিবস সেই চিরন্তন বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনারই স্মারক।