ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও জনসেনা পার্টির প্রধান পবন কল্যাণ। এক আবেগঘন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি দীপু দাসের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পোস্টে পবন কল্যাণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষায় প্রায় ৩,৯০০ ভারতীয় সেনা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং ১০,০০০-এরও বেশি সেনা আহত হয়েছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে শান্তির জন্য এই ত্যাগ, আজ তা কেবল একটি শব্দে সীমাবদ্ধ; বাস্তবতা হলো সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২,৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে পবন কল্যাণ বলেন, ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর ও অপবিত্র করার ঘটনা প্রমাণ করে যে এসব বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও অস্তিত্বের ওপর পরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত।
তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কারাবাস, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা প্রদীপ ভৌমিকের লিঞ্চিং এবং সর্বশেষ ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, দীপু দাসের ওপর সংঘটিত বর্বরতা জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা, পরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া ও আগুনে পোড়ানোর অভিযোগ একবিংশ শতাব্দীতেও মানবতা ও আইনের শাসনের চরম ভাঙনের প্রমাণ।
পবন কল্যাণ দীপু দাসের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন ১৯৫১ সালে যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, বর্তমানে তা ৮ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে যা পরিকল্পিত নির্যাতনের ইঙ্গিত বহন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল নিন্দা নয় বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে; প্রতিটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ময়মনসিংহের ঘটনার অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে, যাতে প্রমাণ হয় কোনো জনতাই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দুর্দশার দিকে চোখ খুলতে এবং ‘নির্বাচিত নীরবতা’ পরিহার করতে।
পোস্টের শেষাংশে পবন কল্যাণ বলেন, “১৯৭১ সালের শহীদদের রক্ত ঝরেছিল শান্তির দেশের জন্য, নির্যাতনের দেশের জন্য নয়। আমরা নীরব থাকব না।”